শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বেহাল বিহারীপুর সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বাহুবলে পূর্ব বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৪০ সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে একটি শাটার বিকল, দেড় মাস গ্যারেজবন্দি বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স

ভালবাসার আদলে জমিনে আবাদ

তরফ নিউজ ডেস্ক : নদীর কোলঘেঁষা ফসলের মাঠ। তাতে ভালোবাসার চিহ্ন এঁকেছেন কৃষক আবদুল কাদির। শৈল্পিক বুননে সরিষা গাছ দিয়ে পঁয়ত্রিশ শতক জমির মাঝখানে ও চারপাশে ‘লাভ’ চিহ্ন এঁকেছেন। মাঝখানে নিজের নাম ফুটিয়ে তুলেছেন। তার দৃষ্টিনন্দন জমিটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

কৃষক আবদুল কাদিরের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পাড়া খালবলা গ্রামের মো. তারা মিয়ার ছেলে তিনি। স্ত্রীর নাম মোকসুদা আক্তার। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ৪০ বছর বয়সী আবদুল কাদির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় শ্রমিকের সংকট থাকায় নিজেদের জমিতে কাজ শুরু করেন। পরে আর পড়ালেখা হয়নি। মাঠেই দিন-রাত পরিশ্রম করে সোনার ফসল ফলান তিনি।

গত নভেম্বরের মাঝামাঝি বাড়ির কাছে কাঁচামাটিয়া নদীঘেঁষা ৩৫ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেন আবদুল কাদির। বারি সরিষা-১৫ জাতের সরিষা দিয়ে তিনি নিজের জমিতে দৃষ্টিনন্দন ‘ভালোবাসার’ বার্তা এঁকেছেন। ফসলি জমির মাঝখানে একটি বড় ‘লাভ’ চিহ্নে তার ভেতরে নিজের নাম, চারপাশে চারটি লাভ এঁকে পুরো মাঠটিকে দৃষ্টিনন্দন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে কাদিরের নিপূণ হাতের সৌন্দর্য।

কৃষক আবদুল কাদির বলেন, তরুণ বয়সে প্রেমে পড়েন পাশের সোহাগী ইউনিয়নের মেয়ে মোকসুদা আক্তারের। তার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টার পর সফল হন। প্রেমের সময় নিজেদের আবেগ বিনিময় করতেন চিঠির মাধ্যমে। চিঠির মাঝখানে একটি বড় লাভ, চারদিকে চারটি লাভ এঁকে মাঝের লাভের ভেতরে লিখতেন দু’জনের নাম। তিনি আরও বলেন, ভালোবেসে সম্রাট শাহজাহান তাজমহল তৈরি করেছেন। তার সেই সামর্থ্য নেই। কিন্তু নিজের মনের ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। নিজের প্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে স্থানীয় পাড়া খালবলা ডিজিটাল ক্লাবের ছেলেদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি সরিষা দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ভালোবাসার বার্তাটি তৈরি করেছেন। ফসল দিয়ে নিজের নাম, চার কোণে চারটি লাভ চিহ্ন, মাঝখানে বড় একটি লাভ, একটি শাপলা ফুল ও দুটি নৌকা এঁকেছেন। কাদির আরও বলেন, সমাজে কলহ, দ্বন্দ্ব সব সময় লেগেই থাকে। তরুণ সমাজ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। যাদের মনে প্রেম আছে তারা কখনও সহিংস হয় না। অহিংসের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই তিনি মাঠে প্রেমের বার্তা ফুটিয়েছেন।

কাদিরের বাবা তারা মিয়া বলেন, ‘ছেলেকে বেশি পড়ালেখা করাতে পারিনি। তার ছেলে ফসলের মাঠে যে সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে, তা দেখতে সবাই ভিড় করছে। এতে নিজের কাছে ভালো লাগছে’।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার বলেন, কৃষক আবদুল কাদির মানসিক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন নিজের ফসলের মাঠে। তার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।

সূত্র : দৈনিক জাগরণ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com